এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করা যায়

এফিলিয়েট মার্কেটিং - আপনারা যারা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে একটু আধটু জানেন বা ঘাটাঘাটি করেছেন তারা হয়তো সকলেই এফিলিয়েট মার্কেটিং নামটা শুনেছেন।কিন্তু অনেকেই জানেননা কি এই এফিলিয়েট মার্কেটিং বা এটা কিভাবে করে?  প্যারার কোনো কারণ নেই আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো কি এই এফিলিয়েট মার্কেটি? কেমন করে করে,ইনকাম কেমন,এটা কি খায় না মাথায় দেই! চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক

আজকের আর্টিকেলে যা থাকছে:
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং কী?
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে কি লাগে?
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে ইনকাম করে?
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়?
এফিলিয়েট মার্কেটিং কী

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ।আপনাকে একেবারে সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছি।ধরুন আপনি ক' নামক কলেজে পড়েন,এই কলেজের বিপরীতে আমার একটা কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। 

সেখানে আমি বিভিন্ন কম্পিউটার ল্যাপটপ ইত্যাদি বিক্রি করি।সেখানে আপনি গেলেন,গিয়ে বললেন যে ভাই আমি আপনাকে কাস্টমার এনে দিবো এবং আমি যতগুলো কাস্টমার এনে দিবো তারা যত টাকার জিনিস কিনবে সেটা থেকে আপনি আমাকে ৮-১০% কমিশন দিবেন।

সাধারণতই দোকানের মালিক রাজি হয়ে যাবে কারণ এতে করে দুইজনেরই লাভ। একেবারে Win Win Situation। তারপর আপনি কলেজে গেলেন, গিয়ে খোজ নিলেন যে কে কে রিসেন্টলি কম্পিউটার কিনবে এবং তাদের একটা লিস্ট বানিয়ে নিলেন।তারপর তাদের কাছে গেলেন এবং বললেন যে আপনার একটা পরিচিত কম্পিউটারের দোকান আছে আর আপনি সেখান থেকে তার জন্য কমদামের মধ্যে ভালোমানের কম্পিউটার কিনে দিতে পারেন।

আরো পড়ুন: ৫০০ টাকার ভিতর সেরা ৫টি কিবোর্ড সম্পর্কে জানুন

স্বাভাবিক ভাবেই সেই বন্ধু রাজি হয়ে যাবে।তারপর আপনার বন্ধুকে আমার কম্পিউটারের দোকানে নিয়ে চলে আসলেন এবং কাঙ্ক্ষিত কম্পিউটারটি কিনে নিয়ে গেলেন। তারপর ধরুন কম্পিউটারের দাম 50000 টাকা আর তা থেকে ১০% বা 5000 টাকা আপনি ইনকাম করে ফেলতে পারলেন। এভাবেই মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং তা ঘটে থাকে।( যদিও এটা পুরাতন দেশীয় এফিলিয়েট মার্কেটিং) 

কিন্তু আসল এফিলিয়েট মার্কেটিং মানে ডিজিটাল এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আপনাকে এত হেঁসেল পোহাতে হবে না। এখন চলুন জেনে নেওয়া যাক আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুটা কিভাবে করবেন।

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে?

আপনি একটি ফেসবুক পেজ ,টেলিগ্রাম চ্যানেল কিংবা একটা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। তবে আমার পরামর্শ থাকবে একটি ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার।কারণ ওয়েবসাইটে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করলে অনেক বেনিফিটস পাবেন।এর জন্য আপনার ইন্টারনেট কানেকশন যুক্ত একটি ডিভাইস মানে ফোন অথবা কম্পিউটার থাকতে হবে তবে ডেস্কটপ ,ল্যাপটপ হলে খুব ভালো হয়।

আরো পড়ুনঃ মোবাইলে টাকা আয়ের সেরা ৫টি উপায়

তারপর ওয়েবসাইট বানাতে নিচের স্টেপগুলো ফলো করুন:

  • প্রথমে ডোমেইন হোস্টিং কিনে নিন।
  • তারপর ওয়ার্ডপ্রেস অথবা অন্যকোন সিএমএসে ভালো মানের একটি থিম দিয়ে একটি এফিলিয়েট সাইট ক্রিয়েট করুন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট থেকে দুই ভাবে টাকা ইনকাম করা যায়।

  • প্রোডাক্ট এফিলিয়েট করে
  • গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে

প্রোডাক্ট এফিলিয়েট

ওয়েবসাইট বানানোর শেষ হয়ে গেলে এখন আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ই-কমার্স থেকে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যাবেন। অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যাওয়ার জন্য এখন অনেক ই-কমার্স প্রোগ্রাম চালু করেছে। সেরা কয়েকটি ই-কমার্স হলো:

  • Amazon
  • AliExpress
  • Clickbank

আমাদের বাংলাদেশেও এমন কিছু ই-কমার্স রয়েছে যারা এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু রেখেছে।যেমন:

  • Daraz
  • BDShop

সেগুলো থেকে আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটা ই-কমার্স সিলেক্ট করুন।তারপর আপনার সাইটে পোস্ট করতে হবে।এখন কী পোস্ট করবেন?

আপনি যেই প্রোডাক্ট এর এফিলিয়েট করতে চান ওই প্রোডাক্টটা সিলেক্ট করুন এবং ওইখান থেকে এফিলিয়েট লিংক জেনারেট করুন।তারপর আপনার সাইটে এসে ঐ পণ্যের ছবি এবং কেনার লিংক সহ পেস্ট করে দিন।তারপর আপনাকে ওই পোস্ট টাকে SEO করতে হবে।

আপনার কাজ শেষ। এখন যার দরকার হবে সে সার্চ দিয়ে আপনার সাইট পাবে(যদি ভালো এসইও করেন)।আর যদি সে জিনিসটা কিনে তাহলে আপনি ভালো একটা প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন।এখন চলুন কথা বলি গুগল এডসেন্স থেকে কিভাবে ইনকাম হবে।

  • গুগল এডসেন্স ইনকাম

আপনার সাইটে যদি ভালো মানের কন্টেন্ট থাকে তাহলে আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন।আশা করি কন্টেন্ট ভেলুএবল থাকলে আপনি এডসেন্স পেয়ে যাবেন এবং সেখান থেকেও আপনি ভালো পরিমান টাকা অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

যদি আপনি ভাবেন যে সাইট খোলার পর পর আপনার ইনকাম হতে থাকবে তাহলে ভুল ভাবছেন।এই লাইনে অনেক ধৈর্য লাগে।এফিলিয়েট করে আপনি কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন সেটা নির্ভর আপনার স্কিলের ওপর।আপনাকে আগে SEO,Marketing স্কিল গুলা ভালো ভাবে রপ্ত করতে হবে।তারপর আপনাকে মার্কেটে আসতে হবে।

আর এভারেজ এফিলিয়েট মার্কেটাররা মাসিক ১০০০ডলার+ ইনকাম করতে পারে।যদি আপনি এভারেজ থেকে এডভান্সে যেতে পারেন তাহলে আপনার ইনকাম ৫গুণের অধিক বাড়ানো সম্ভব এবং বাংলাদেশে এমন অনেক এফিলিয়েট মার্কেটার রয়েছে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসিক 5000ডলার+ ইনকাম করে।তারা এই লাইনে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছে তাই তারা আজকে সফল। আশাকরি আপনাকে একটা মোটামুটি ধারণা দিতে পেরেছি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কেমন আর্নিং সম্ভব।

আরো পড়ুন: অনলাইনে টাকা আয়ে সেরা৫টি উপায়

যাইহোক আপনি যদি প্রফেশনাল এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে পরামর্শ থাকবে একটি পেইড কোর্স করে নেয়ার।

তাছাড়া আপনাদের জন্য টেক বাউন্ডারের পক্ষ থেকে রয়েছে একটি পেইড এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স সম্পূর্ণ ফ্রীতে ।এই কোর্সটি খুবই ভালো, অনেকে এটি করে সফল হয়েছেন।

এই কোর্সটি পাওয়ার জন্য আপনাকে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হতে হবে।ঐখানে গুগল ড্রাইভের লিংক আপলোড করা রয়েছে।আশা করি আপনি উপকৃত হবেন।

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল

শেষ কথাঃ

এই ছিলো আমাদের আজকের আর্টিকেল যেখানে আমি স্টেপ বাই স্টেপ বুঝানোর চেষ্টা করছি এফিলিয়েট মার্কেটিং কি,  কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে হয় ,এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করা যায়।  আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে থাকলে এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সাইট খুলার স্টেপগুলি সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছেন।এর পরেও যদি আপনি না বুঝে থাকেন এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরো জানতে চান তাহলে আমাদের ফেজবুক পেইজে যোগাযোগ করতে পারেন।সেখানে আপনার উত্তর দেয়ার জন্য রয়েছে আমাদের মোডারেটর।

ফেইসবুক পেইজেমেসেজ দিন

আশা করি আপনি একজন সফল এফিলিয়েট মার্কেটার হতে পারবেন।ধন্যবাদ।।